বর্তমানে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সকলেই সচেতন। বিশেষত অনেকেই কম তেলে রান্নার পক্ষপাতী। আবার রান্নার তেল নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সজাগ দৃষ্টি রাখেন অনেকে। তেলের ব্যবহার স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। তাই জেনে নিন, কোন তেল স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা উপযোগী–
- অলিভ অয়েল (এক্স্ট্রা ভার্জিন)-
রন্ধন বিশেষজ্ঞরা অলিভ অয়েলে তৈরি খাবারকে অধিক স্বাস্থ্যসম্মত মনে করেন। বিশেষত এক্স্ট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, কারণ এটি সম্পূর্ণ রূপে শুদ্ধ। এক্স্ট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের প্রক্রিয়াকরণ হয় না। এমনকি এটিকে পরিশোধিতও করা হয় না। যার ফলে এটি উন্নত গুণমানের হয়ে থাকে। এতে যথোপযুক্ত পরিমাণে মোনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও সামান্য পরিমাণে পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এটি হৃদয়ের পক্ষে ভালো। স্বল্প বা মাঝারি আঁচে অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করা উচিত। বেকিং ও স্যালাডের ড্রেসিংয়ের জন্য অলিভ অয়েল ভালো।
- নারকেল তেল-
নারকেল তেলে হাই স্যাচুরেটেড ফ্যাট উপস্থিত। তাই এর ব্যবহার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা দ্বিমত পোষণ করেন। স্যাচুরেটেড ফ্যাট আবার স্বাস্থ্যের পক্ষে অনুপযোগী। তবে কোনও কোনও বিশেষজ্ঞদের মতে স্বল্প পরিমাণে ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য সামগ্রীর সঙ্গে এই তেল ব্যবহার করলে কোলেস্টেরলের স্তর কমানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কম পরিমাণে হলেও, স্যাচুরেটেড ফ্যাটের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা যায় না। তাই স্বল্প পরিমাণে এটি ব্যবহার করা যেতেই পারে। উচ্চ তাপমাত্রায় নারকেল তেলে রান্না করা হয়।
- সূর্যমুখী তেল-
এতে অধিক পরিমাণে ভিটামিন ই পাওয়া যায়। এক চামচ সূর্যমুখী তেলে ২৮ শতাংশ ভিটামিন ই থাকে। উচ্চ তাপমাত্রায় এই তেলে রান্না করতে হয়। এতে ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড অধিক পরিমাণে থাকে। শরীরের পক্ষে এই ফ্যাটি অ্যাসিড আবশ্যক হলেও, এর বেশি ব্যবহারের ফলে শরীর ফুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই তেলে রান্না করলে নিজের খাদ্য তালিকায় ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অন্তর্ভূক্ত করতে ভুলবেন না। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
- ভেজিটেবল অয়েল-
কোন ধরণের রান্নায় ভেজিটেবল অয়েল ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে এর উপযোগিতা। এই তেলটি প্রোসেসড ও রিফাইন করা হয়, তাই এতে স্বাদ ও পুষ্টি কম পাওয়া যায়। তবে এটি শরীরে ভালো ও খারাপ কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে এই তেলের অধিক ব্যবহার শরীরের ক্ষতি হতে পারে।
- ক্যানোলা অয়েল-
সরষের গাছ থেকে এই তেল বার করা হয়। এতে অধিক পরিমাণে মোনো আনস্যাচুরেটেড পাওয়া যায়, তবে সঠিক পরিমাণে পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়। সমস্ত ভেজিটেবল অয়েলের মধ্যে ক্যানোলা তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট সবচেয়ে কম পরিমাণে পাওয়া যায়। উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে এর অধিক উপকার পাওয়া যায়। তবে প্রোসেসড হওয়ার কারণে অনেকে এই তেলকে স্বাস্থ্যকর মনে করেন না।
- বাদাম তেল-
বাদাম তেল স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী। তবে নানা প্রকারের বাদাম তেল পাওয়া যায়। এতে অধিক পরিমাণে মোনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে।
- আভাকাডো অয়েল-
ভার্জিন অলিভ অয়েলের মতো একেও রিফাইন করা হয় না। এই তেলেও উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা হয়। আভাকাডোর মতো এর তেলও ক্রিমি হয়। এতে মোনো আনস্যাচুরে়টেড ফ্যাট, পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন ই থাকে।
- আখরোটের তেল-
এই তেলের স্মোকিং কোয়ালিটি খুবই কম। তাই এতে রান্না করা উচিত নয়। প্যানকেক, ফল, আইসক্রিমের উপর দেওয়া হয়ে থাকে। কেউ কেউ আবার কফি বা দুধেও এই তেল দিয়ে থাকেন। এই তেলে ওমেগা ৬ ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সঠিক পরিমাণে পাওয়া যায়, যার ফলে শরীরে ইনফ্লেশন হয় না।
- রাইস ব্রান অয়েল–
এই তেলে প্রচুর পরিমাণে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। ধানের তুষ থেকে তৈরি রাইস ব্রান অয়েল কোলেস্টেরল হ্রাসে ভূমিকা রাখে।
- তিলের তেল–
তিলের তেল ভাজাভাজির জন্য আদর্শ। এতে প্রায় সম পরিমাণে পলিউনস্যাচুরেটেড বং মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড আছে যা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।
- সরিষার তেল–
সরিষার তেলে পর্যাপ্ত আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। এ কারণে এটি রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়। যাদের হৃদরোগের সমস্যা আছে তারা এই তেলে তৈরি খাবার খেতে পারেন। ভাজাভাজির জন্য এই তেলও বেশ উপকারী।